অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রতিবাদী শিক্ষিকাকে অবশেষে স্টান্ড রিলিজ

প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫৮:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২০

 

স্টাফ রিপোর্টার :
মাদারীপুরে সত্যের পরাজয় হয়ে মিথ্যা প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি অবলোকন করলো জেলাবাসী। মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো অনিয়মই এখানে নিয়ম। অদৃশ্য ক্ষমতার হাত কতো প্রসারিত। ঘটনাটি ছোট হলেও বিবেকের দরজায় প্রচন্ড জোরে আঘাত করেছে। নিয়ম-নীতির কোনো রকম তোয়াক্কা না করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মাধ্যমে সরকারী সম্পদ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে নিজেই হেরে গেলেন একজন শিক্ষক। এটি সদর উপজেলার চরমুগরিয়া ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তার শাম্মীর সাতকাহন। অদৃশ্য হাতের ইশারায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যোগসাজসে অবশেষে তাকে স্টান্ড রিলিজ করা হলো। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চারিত কন্ঠরুদ্ধ হয়ে গেলো বলে মনে করেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সম্প্রতি মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর এলাকার চরমুগরিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় কৌশলে বিদ্যালয়ের মালামালসহ অর্থ আত্মসাত করেন। যা বিদ্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা আক্তার শাম্মী প্রতিবাদ করে তার উর্ধ্বতন মহলকে জানান। যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। এছাড়া অলকা রায় অনিয়ম করে জাল স্বাক্ষরে মেয়াদ থাকার পরেও একটি ভুয়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন। এমন দুর্নীতি করে কমিটি গঠন ও বিদ্যালয়ের মালামালসহ অর্থ আত্মসাতকারী এসএসসি পাস ভারপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষিকা অলকা রায়ের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বিএডসহ মাস্টার্স ডিগ্রীধারী ওই বিদ্যালয়ের অর্থ ও মালামাল আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটনকারী প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা আক্তার শাম্মীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। যা সচেতন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলো দোষী শিক্ষক আর সত্যের পক্ষে থেকে প্রতিবাদী নিরপরাধ প্রধান শিক্ষক পেলেন সাজা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস হতে হবে। অথচ চরমুগুরিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আউয়ুব খান স্নাতক ডিগ্রীধারী না হলেও তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তাও পিছনের তারিখ দিয়ে সবকারের প্রজ্ঞাপন জারির এক মাস আগে। সেই ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও তা অনুমোদন দিয়েছেন সদর উপজেলার সহকারী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। অথচ বর্তমানে শিক্ষা কর্মকর্তারাও নতুন করে ম্যানেজিং কমিটি করার জন্যে গত ২৭ ফেব্র“য়ারি নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা করেন এবং ২ মার্চ ভোটার তালিকা অনুমোদন করেন।
এব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘নতুন কমিটির কাগজে তিনিসহ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাশিদা বেগম কেউ স্বাক্ষর করেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় আমাদের সই জাল করে কমিটি দেখিয়েছে। এ জন্য অলকা রায়কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুরে টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কমিটির সদস্য ও এলাক এর আহ্বায়ক এম. আর. মর্তুজা বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রধান শিক্ষিকা ফারহানাকে পুরস্কৃত না করে বরং তাকে বদলী করা খুবই অমানবিক হয়েছে। এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কন্ঠরোধ করার সামিল। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দাবী করছি।’
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি।
তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফারহানা আক্তার শাম্মীকে বদলী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হয়েছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’