ইকোপার্কে দলবেঁধে ধর্ষণ: তিন দিনেও আসামি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ

প্রকাশিত: ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১ | আপডেট: ১১:৩৩:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

বরগুনার তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্কে এক পর্যটককে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ জেলার সচেতন মহল।

তবে পুলিশ বলছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ভুক্তভোগী ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে।

এর আগে বুধবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ভগ্নিপতির সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্কের বনে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ভুক্তভোগী ওই নারী। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চার জনের নাম উল্লেখ করে তালতলী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই নারী পর্যটক।

মামলায় সোহাগ (২৫), রুবেল (২৮), মিজানুর (২৪) ও জাহিদুল (২৭) নামের চার যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) এবং ওই হাসপাতালের ভিকটিম এক্সামিনেশন বোর্ডের সদস্য ডা. তাসকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে হাসপাতালের ভিকটিম এক্সামিনেশন বোর্ডে সদস্যরা।
পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার ওই নারী বিবাহিত এবং তার একটি সন্তানও আছে। অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা যতটা সহজ, বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ততটা নয়। তাই আমরা আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলার নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, বরগুনার পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করার জন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা দরকার। তা না হলে এ জেলার পর্যটন স্পটগুলো থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। মুখ থুবড়ে পড়বে জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত।

তিনি আরো বলেন, স্পটগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখোরিত রাখতে হলে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া খুবই প্রয়োজন।

বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, পর্যটন কেন্দ্রে একজন পর্যটককে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনা বরগুনা জেলার পর্যটন খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তাই টেংরাগিরি ইকোপার্কের ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা অবিরত জেলার পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেখানে পর্যটন কেন্দ্রে এরকম একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের সকল প্রচেষ্টার মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছে। তাই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান।

জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ রহমান বলেন, আমরা জেলার পর্যটন খাতকে শিল্পে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বরগুনার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রেই উচ্ছৃঙ্খলদের উৎপাত রয়েছে। এর ফলে জেলার পর্যটন খাত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের কারণে জেলার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রেই পর্যটকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই আমরা কাঙ্খিত সফলতা পাচ্ছি না। তিনি জেলার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত শুধু আসামিদের নাম জানতে পেরেছি। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। এখন পর্যন্ত আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের সোর্সদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমি আশাবাদী খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।