এনআরসি ইস্যুতে বিজেপি বিরোধী ঐক্যের ডাক মমতার

প্রকাশিত: ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪৪:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সপ্তাহে ভারতের আসাম রাজ্যে প্রকাশিত সংশোধিত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) মাধ্যমে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে প্রায় ১৯ লাখের বেশি বাঙালিকে। যদিও সদ্য প্রকাশিত সেই তালিকার প্রতিবাদে এবার ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ জানায়, ভারতের বিরোধী শিবিরগুলো এনআরসি ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাট্টা হয়ে শুরু করেছে। আর যার শুরু হয় চলতি রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে। মূলত সেখান থেকেই এনআরসি প্রসঙ্গে বিজেপি বিরোধী ঐক্য গঠনের ডাক দেন পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী।

এবার শোনা যাচ্ছে, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধিতাই নয়, দলকে সড়কে নামিয়ে এই এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে করতে চান তিনি। কলকাতাভিত্তিক গণমাধ্যম দৈনিক ‘বর্তমান পত্রিকা’ জানায়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিগত লোকসভা নির্বাচনের পর এবারই প্রথম সরাসরি বিজেপি তথা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামতে যাচ্ছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনের আগেও ক্ষমতাসীন জোটটির বিরুদ্ধে ঐক্য গঠনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এই নেত্রী। মূলত তখন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে কংগ্রেসসহ দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলকে একত্রিত করেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা আর সফল হয়নি। এবার সেই বিজেপি বিরোধী সংগ্রামে নিজের অবস্থানে অটল থেকে এনআরসিকে অস্ত্র বানিয়েছেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভাষায়, ‘বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষ থেকেই বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে। মূলত ধর্মের বিভাজন এই এনআরসির মূল উদ্দেশ্য। যদিও আমি কোনোভাবেই বাংলায় এমন বিভাজন করতে দিব না।’

গত রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিধানসভায় এমন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মমতা এবার কট্টর বিরোধী রাজ্য কংগ্রেস ও বামপন্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যে কারণে এনআরসিকে ঘিরে রাজ্যস্তরে রাজনৈতিক মেরু করণে আপাতত সফল এই মমতা।

এ দিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, গত সপ্তাহে আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে অন্তত ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ বাঙালিকে। যেখানে আগের তালিকায় বাদ দেওয়া হয়েছিল প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দাকে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু। তাছাড়া এতে স্বীকৃতি মিলেছে প্রায় ৯ কোটি ১১ লাখ লোকের। যদিও এই তালিকা থেকে বাদ পড়াদের নিয়ে এবার আসাম তো বটেই, গোটা ভারত এমনকি প্রতিবেশী বাংলাদেশ পর্যন্ত মোদী সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসামের এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়াদের কাছে বাংলাদেশের কোনো নাগরিকত্ব নেই; এমনকি ভারত ছাড়া আর কোনো দেশেরই নাগরিকত্ব নেই তাদের। এমন অবস্থায় ভারত তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিলে মানুষগুলো একদমই রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে; যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।