দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নাটক সাজাতে গিয়ে শেষ রক্ষা হলো না মিশুর

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১ | আপডেট: ১১:৫৬:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নাটক সাজাতে গিয়ে শেষ রক্ষা হলো না সাকিবুল আলম মিশুর। অবশেষে পুলিশ তাকে আটক করেছে।

রাজধানীর হাতিরঝিলে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় শনিবার (৩ এপ্রিল) ঝিলিক আলম (২৩) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ঝিলিককে হত্যার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেছেন তার মা তহমিনা হোসেন আসমা।

মামলার আসামিরা হলেন- নিহত ঝিলিকের স্বামী সাকিব আলম মিশু, দেবর ফাহিম আলম, শাশুড়ি সায়িদা আলম, শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম এবং বাসার ম্যানেজার আশিশ।

মামলাসুত্র ও প্রাথমিক অভিযোগের বরাতে জানা গেছে, ২০১৮ সালের প্রথমদিকে সাকিব আলম মিশুর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় নিহত ঝিলিক আলমের (২৩)। পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় তারা। মিশু বাবা-মায়ের কাছে পছন্দের বিষয়টি জানালে তারা ঝিলিকের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে বিয়েতে অমত দেন। কারণ, ঝিলিক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

সাকিব আলম মিশুর পরিবার গুলশান-২ এর স্থায়ী বাসিন্দা। আর ঝিলিকের পরিবার মোহাম্মদপুরের তাজমহল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাই আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ায় সাকিবের পরিবার গরিব পরিবারের মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি।

সাকিব তাকে ছাড়া অন্য মেয়েকে বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন তার পরিবারকে। একপর্যায়ে ছেলের জেদের কাছে হার মানেন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর মিশুদের বাড়িতেই ওঠেন ঝিলিক। কয়েক মাস তারা ভালোই ছিলেন। ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকে শুরু হয় অশান্তি।

পেছনের ঘটনাঃ

এর আগে, স্ত্রীর লাশ প্রাইভেটকারে তুলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান মিশু। হাসপাতালে গিয়ে মিশু জানান, হাতিরঝিল আমবাগান এলাকায় রাস্তায় আইল্যান্ডের উপর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিলে তিনি ডান হাতে সামান্য আঘাত পান এবং গাড়িতে থাকা তার স্ত্রী ঝিলিক আলম (২৩) গুরুতর আহত হন বলে চিকিতসককে জানান তিনি।

এরপর তার ভাষ্যমতে,  স্ত্রীকে ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলা সোয়া ১১টায় ঝিলিককে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে মিশুকে আটক করে। পরে গুলশান-২ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর রোডের বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন ব্যক্তি ওই নারীকে বাসার সিড়ি থেকে চ্যাং দোলা করে বের করছেন।

ঝিলিকের মায়ের অভিযোগ- ঝিলিক ও মিশু ভালোবেসে ২০১৮ লে বিয়ে করেন। প্রায়ই তার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, ওই নারীর স্বামীর আচরণ রহস্যজনক মনে হওয়ায় তাকে জেরা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার বাসা গুলশানে। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই বাছাই করে দেখা যায়, ঝিলিককে বাসা থেকেই অচেতন অবস্থায় বের করা হয়। এরপর স্বামী সাকিবুল আলম মিশুকে আটক করে হাতিরঝিল থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম রয়েছে।

নিহত ঝিলিকের দেবর ফাহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঝিলিকের বাসাতেই মৃত্যু হয়েছে। তবে তার ভাই কেন দুর্ঘটনার কথা বলেছেন, তা তার জানা নেই।