শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি সম্পদ আত্মসাতসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০ | আপডেট: ৬:১৯:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০
চরমুগরিয়া-২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌরসভার ১১১নং চরমুগরিয়া-২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় চলছে অনিয়ম ও লুটপাট। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, জেলা-উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা এ সব অনিয়মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে বিচারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাববক ও সচেতন মহলের।
অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ২০১৯ সালের মে মাসের মাসিক বিবরণীতে উঁচু বেঞ্চ ছিল ১১৫টি, নিচ ুবেঞ্চ ১২৩টি, চেয়ার ১৮টি, টেবিল ৮টি, আলমারি ৩টি এবং ফ্যান ছিল ২৫টি। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের মাসিক বিবরণীতে উঁচু বেঞ্চের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৬টি, নিচু বেঞ্চ ৬৬টি, টেবিল ৭টি এবং ফ্যান মাত্র ১০টি। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের ৬টি দরজা বিক্রি করে অর্থ, মেন্টেন্যান্স ও স্লিপের অর্থ আত্মসাতসহ মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বিদ্যালয়ের ব্যাপক সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এরই মধ্যে অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তার বিএড প্রশিক্ষণে থাকাকালিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি এসব অনিয়ম করেন। পরে এ বছরের ১৩ জানুয়ারী ফারহানা আক্তার প্রশিক্ষণ শেষে বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তাকে অজ্ঞাত কারণে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না। সরকারি সম্পদ লুটের ঘটনা প্রকাশ করায় প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তার রয়েছেন বদলি আতঙ্কে।
এছাড়াও গত ০৬.১১.২০১৯ তারিখে বর্তমান সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে স্নাতক পাস। এই বিদ্যালয়টির তিন বছর মেয়াদী ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সে অনুযায়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গত ২৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনী তফসীল ঘোষণাও করেছেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আউয়ুব খানকে সভাপতি করার জন্য পেছনের তারিখ দিয়ে সবকারের প্রজ্ঞাপন জারির ঠিক ১ মাস আগে (০৬.১০.২০১৯) একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও তা অনুমোদন দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। অথচ ওই কমিটির সভাপতি আইয়ুব খান স্নাতক ডিগ্রীধারী নয় বলেও জানা গেছে।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খানের সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টি আড়াল করতেই প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তার যোগদানের পরেও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না। এই ঘটনার সাথে খোদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদা খাতুন ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জড়িত। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারী দাবী অভিভাবকদের।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিষেধ করায় প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেইনি। কিছু মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের বিষয় মোবাইল ফোনে কথা বলতে রাজি নই।’ আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খান সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
এসব অভিযোগের বিষয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
এব্যাপারে রাশেদা খাতুন জানান, প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আর বিদ্যালয়ের মালামাল লোপাটের বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে।
এ বাপারে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। যাই হোক প্রধান শিক্ষককে কোন রাজনৈতিক চাপে দায়িত্ব না দেওয়াটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, আগামীকাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আমি বসবো, তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলবো।”