ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,চাঁদপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের উপকারের কথা মনে রাখবে সাধারণ জনগণ

Ismail Ismail

Serazi

প্রকাশিত: ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

সাইফুল্লাহ আল মনির”বিশেষ প্রতিনিধিঃ- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর ও চরমোনাইর পীর, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম এর আহ্বানে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য  প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়েছে।

তার-ই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলা এবং জেলার সকল উপজেলায় একটি করে বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে চাঁদপুর জেলার আওতাধীন সকল উপজেলায় কোভিড-১৯ এ মৃত ব্যক্তীর দাফন এবং কর্মহীন-বেকার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলা একটি একটি রেল মডেল হিসেবে স্থান দখল করেছে এবং অনেক প্রশংসাও অর্জন করেছে।

টিম প্রধান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাদঁপুর জেলা সভাপতি, মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা পীর সাহেব চরমোনাই এর ডাকে সারা দিয়ে, দেশের সকল জেলার মতো আমরা আমাদের জেলা ও ৮টি উপজেলায় মোট ৯টি টিম গঠন করি। পরর্বতীতে সদর,হাদীগঞ্জ,মতলবদী উপজেলায় আরো একটি করে টিম গঠন করি।এখন মোট ১১টিম এই জেলায় কাজ করে যাচ্ছে।

করোনাকালীন এ দুঃসময়ে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা টিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলার ৮ টি উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে গতকাল ২৮/৬/২০২০ পর্যন্ত মোট ১০০ জন মানুষের দাফন-কাফন সম্পন্য করা হয়েছ। তাদের মদ্ধে ৯৫ জন মুসলিমের(নর-নারী) লাশ গোসল,কাফন,জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইসলামী শরীয়ার গন্ডিতে অবস্থান করে, মানবিক কারনে
৫ জন অন্য ধর্মাবলম্বী, যার তিন জন সদর উপজেলার, একজন মতলবদী উত্তর উপজেলার ও ১ জন জেলা পৌরসভার খ্রীষ্টানের মরদেহ সৎকারে হিন্দুদের শ্বশ্মানে এবং খ্রীষ্টানদের শেষকৃত অনুষ্ঠানস্থলে তাদের ধর্মীয় পুরহিতদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তাদের ভিতর ১৯ জন নারী ও ৭৬ জন পুরুষ ছিলো।

চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৩২জন, হাজিগঞ্জে ৩৬জন, মতলব দক্ষিণে ০১জন, মতলব উত্তরে ১০জন, ফরিদগঞ্জে ০৮জন, শাহারাস্তি ০৩জন, কচুয়া উপজেলায় ০১জন।

শুধু এখানেই শেষ নয়, এর বাহিরে তারা মানবতার সেবায় আরো অনেক কাজ করেছেন।

১) ১৮,২১৬টি পরিবারকে তারা মোট ৬৫,৬৩,৭৫০ টাকার ত্রান পৌঁছে দিয়েছেন।

২) অসহায় কৃষকের ধান কেটে দেয়া হয়েছে ৫ একর জমির।

৩) মাস্ক বিতরণ করেছেন ১০০০ পিস।

৪) গনসচেতনামূলক লিপলেট বিতরণ করা হয়েছে ১০,০০০ পিস।

জেলা টিম প্রধান;- শেখ মোঃ জয়নাল আবদিন এর কাছে তার অনুভুতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন আপন আত্মীয় তার রক্তের বন্ধনের আত্মীয়কে শেষবারের মতো দেখতে আসেনা। ঠিক সেই সময় আমরা মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে, আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, দিন রাত মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। এটাই বড় কথা। আল্লাহর কাছেই এর বিনিময় পাওয়ার আশা করছি।

দাফন-কাফন করতে গিয়ে তারা কোন বাধার সম্মুক্ষিন হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক বাধা আসছে, বলতে গেলে অনেক কথা। কোন কোন বাড়িতে কবর করার জন্য একটি কোঁদাল চাইলেও অনেক সময় পাওয়া যায়না। কোন কোন জায়গায় খাটিয়া ব্যবহার করতে বাধা। এমনকি কোন জায়গায় একটি গামছা পর্যন্ত দিতে রাজি হয়নি। যদি কোন প্রয়োজনে আসে তাও আমাদের থেকে অনেক দুরে অবস্থান করে।

এমন হয়ছে যে গোসল করানোর জন্য রাতের আধারে একটি বালতি চাইলে কেউ দিতে রাজি হয় নি। পরে টিম সদস্যদের বাড়ি থেকে বালতি এনে গোসল দিতে হয়েছে। আবার দেখা গেছে মৃত ব্যাক্তি চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন, হাসপাতালে মারা গেছেন। লাশ দাফন হবে গ্রামের বাড়ীতে।

কিন্তুু দেখা গছে বাড়ীর মানুষই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার লাশ বাড়ীতে ঢুকতে দেয়া হবেনা। আমাদের টিমের একজন দাফন শেষ করে আসলে পরে তাকে বাড়ীতে ঢুকতে দেয়া না। সে ওই রাতে ছাদের ট্যাংকির উপরে অবস্থান নিয়েছে।

পরে মতলবের টিম প্রধান আমাকে ফোন দিয়েছে। আমি বলছি UNO কে জানানোর জন্য। জানানোর সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে।

টিম সদস্য ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির চাদঁপুর জেলা সাধারন সম্পাদক মাওলানা যোবায়ের হোসেন বলেন, সকল পরিস্থিতিতে আমরা কাজ করতে পারতেছি এটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। সকল রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও আলেম ওলামা আমাদের প্রশংসা করছেন এবং আমাদের টিমের জন্য বিভিন্ন মসজিদে দুয়া করা হচ্ছে।

ইসলামী যুব আন্দোলন এর জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ হেলাল আহমেদ বলেন, আল্লাহর শোকর, পীর সাহেব চরমোনাই এর নির্দেশে আমরা জনগনের সেবা করে জাচ্ছি এবং আমরন করতে চাই ইনশা আল্লাহ।

টিমের আর এক সদস্য ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি, মো: নেছার উদ্দিন বলেন, আল্লাহর শোকর, আমরা মানবতার সংগঠন করছি এবং এই কঠিন মুহূর্তে সেবা দিতে পারতেছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা সব-সময় জনগণের পাশে আছি। সকল পরিস্থিতিতে তাদের সেবা করবো প্রয়োজনে আমরা ইউনিয়ন ব্যপি টিম গঠন করবো।

আওয়ার টাইমস/ইসমাইল

Facebook Comments