‘দেওবন্দের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না কওমি মাদরাসা’

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২০

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ সরকারি অনুদান বিষয়ে আজ ২মে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে খাসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলােচনা পর্যালােচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ, কওমি মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়।

তাই এধনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানাে হয়। বেফাক নেতৃবৃন্দ বলেন উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমি মাদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে যে ‘উসুলে হাশতেগানা তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলাে যে কোনাে পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।

সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনাে কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। অতীতেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কঠিন সংকটকালীন সময়ে আমাদের পূর্বসূরি অনুদানের জন্য সরকারের অন্তস্থ হননি।

বিবৃতিতে তারা আরাে বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলামগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুলহু ঐ মুলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্টিত ও ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলাে কওমি মাদরাসা।

তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংবিধান উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না। নেতৃবৃন্দ আরাে বলেন, কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহবান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অদৃষ্টিকালের জন্য কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না।

আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করােনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফি এর সাথে যােগাযােগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন।

বৈঠকে মারা উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানার নূর হােসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুজুল হক, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, হযরত মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

Facebook Comments