দেশে বিপদজনক রাজনীতিবিমুখ প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে:ছাত্র নেতা এম. হাসিবুল ইসলাম

Ismail Ismail

Serazi

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

আওয়ার টাইমস ডেস্কঃ- যারা জিজ্ঞেস করলেই স্মার্টলি জবাব দেয়, ‘আমি রাজনীতি পছন্দ করি না৷ শুধু নতুন প্রজন্মই নয়, সব বয়সের মানুষের মধ্যেই রাজনীতি নিয়ে এক ধরনের অনীহা কাজ করে৷

এখন আর কেউ চান না, তার সন্তান ছাত্ররাজনীতি করুক৷ আর মন্ত্রী-এমপি-নেতা-আমলারা তো তাদের সন্তানদের বিদেশেই পড়ান৷ তাই দেশ, রাজনীতি, ছাত্ররাজনীতি গোল্লায় গেলে তাদের যেন কিছু যায় আসে না৷

এই প্রবণতা দেশ ও জাতির জন্য বিপদজনক৷ তাহলে কি আমরা নিজেরা রাজনীতি থেকে দূরে থাকবো আর জেনে শুনে দুর্বৃত্তদের হাতে দেশটা লিজ দিয়ে দেবো? এটাতো হতে পারে না!

ব্যাপারটা যদি এমন হয়, মেধাবীরা সব বিসিএস ক্যাডার হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে বা ভালো চাকরি নিয়ে বিদেশে চলে যাবে আর ছাত্র হিসেবে খারাপ এবং স্বভাবে মাস্তানরাই শুধু রাজনীতি করবে; তাহলে আমাদের কপালে সত্যি খারাবি আছে৷

কারণ সাধারণ নিয়মে যারা রাজনীতি করবে, তারাই ভবিষ্যতে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে; রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ করবে৷ একটু কল্পনা করলে বুঝবেন, ক্লাসের মেধাবী ছাত্রটি বিসিএস দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে গেল আর মাঝারি মানের ছাত্রটি রাজনীতি করলো ৷
যে ক্যাডার সার্ভিস এ গেল সে প্রমোশন পেতে পেতে সচিব হলো৷

আর মাঝারি ছাত্রটি ধাপে ধাপে মন্ত্রী হলো৷ এখন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত কিন্তু মন্ত্রীই নেবেন, সচিব তা কার্যকর করবেন শুধু৷ তার মানে কম মেধাবীরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আর বেশি মেধাবীরা তা কার্যকর করছেন৷

ব্যাপারটা যদি উল্টো হতো যদি মেধাবীরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গায় থাকতো, তাহলে তা দেশ ও জাতির জন্য আরো কল্যাণকর হতো৷

আমি বলছি না, সব ছাত্রকেই রাজনীতি করতে হবে৷ যার রাজনীতি ভালো লাগে সে রাজনীতি করবে, যে একাডেমিকভাবে ভালো করতে চায়, সে তাই করবে৷

১৮ বছর বয়সীরা উচ্চতর স্তরে পরাশুনা করে। তারা ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু রাজনীতি করতে পারবেন না, এটা হতে পারে না।

ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক দিক সমুহ্-
একজন ছাত্রকে সাহসী করে,
দায়িত্বশীল করে,
স্বার্থপরতার উর্ধ্বে উঠে ভাবতে শেখায়৷

জীবনের সমস্যাগুলো সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে শেখায়৷
তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়৷
নেতৃত্ব দিতে শেখায়৷

আমি মনে করি, একজন রাজনৈতিক কর্মী কখনোই তার সহযোদ্ধাকে বিপদে ফেলে যাবে না৷

কোন কর্মী কে রেখে কখনোই একা কিছু খাবে না। কেউ কারাগারে গেলে বা সমস্যায় পড়লে তার পরিবারের পাশে দাড়াবে৷

আমি জীবনকে বড় করে দেখার সুযোগ পেয়েছি এই ছাত্র রাজনীতির সুবাদেই৷

সমাজ-গাড়ির স্টিয়ারিং হলো রাজনীতি। স্টিয়ারিং যেদিকে ঘুরবে গাড়ি সেদিকেই যাবে। তাই সিদ্ধান্ত আপনার, নিজের দায়িত্ববোধকে বন্ধ রাখবেন, না-কি স্টিয়ারিং ভুল কারও হাতে ছেড়ে দিবেন।

পরিশেষে প্রত্যাশা যে, ছাত্র সমাজের জন্যই হবে ছাত্ররাজনীতির মূল কার্যক্রম।

আওয়ার টাইমস/ইসমাইল

Facebook Comments