নাঙ্গলকোটে মাদরাসা ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউপির উত্তর মাহিনী গ্রামে মাহমুদা আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে সৎ বাবা ও মা আত্মগোপনে রয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই মাদরাসা ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মাহমুদা আক্তার উর্মি একই ইউপির কুকুরিখিল গ্রামের মজিবুল হকের মেয়ে। সে মাহিনী লতিফিয়া এনামিয়া মহিলা মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। নিহতের নানী মাজিয়া খাতুন জানান, রবিবার বিকেলে উর্মি বিষপান করলে তাকে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর মাহিনী গ্রামের চান মিয়া কবিরাজ বাড়ির আলী মিয়ার একমাত্র মেয়ে হালিমা বেগম আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত। তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান হওয়ার সুবাদে হালিমার বাবা তার যাবতীয় সম্পত্তি তার নামে লিখে দেয়। এর পর হতে তার উচ্ছৃঙ্খলতা আরো বেড়ে যায়।

নিহত মাহমুদা আকতারের বাবা মজিবুল হক ওমান থাকার সুবাদে ১ বছর পূর্বে নিহতের মা চার সন্তানের জননী হালিমা বেগম একই ইউপির পূর্ব খাড়ঘর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ২ সন্তানের জনক ভাগিনা সম্পর্কীয় নূরে আলমের সঙ্গে পরকিয়ার জেরে আটক হন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মজিবুল হক ওমান থেকে দেশে আসার খবরে হালিমা বেগম পরকিয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে অনেক বিচার সালিস হয়। পরে গ্রামবাসী ওই নারীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করে। নিহতের মা তার সৎ বাবা ও ভাইবোন নানার বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকে।

নিহতের বাবা মজিবুল হক অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী খারাপ নারী আমার জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে আমাকে সর্বশান্ত করেছে। তারা আমার মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে, আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Facebook Comments