ফেরি সংকটে যানজট, এক ফেরিতে একাই গেলেন সাবেক মন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

পদ্মায় প্রবল স্রোতে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের প্রতিকূলে ফেরিগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বহরের ১৬টি ফেরির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে মাত্র ৬টি ফেরি দিয়ে সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে।

ফেরি সংকটে যখন কয়েক শ’ যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ওই সময় দুপুরে সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ফরিদপুর নামে একটি ফেরি ১৮ হাজার ৫শ’ টাকায় চাটার্ড (ভাড়া) করে শিমুলিয়া থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে যান। এতে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মায় প্রবল স্রোত আর ঘূর্ণাবর্তে ফেরিগুলো চলছে ঝুঁকি নিয়ে। স্রোতের প্রতিকূলে ফেরিগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। মাঝে মধ্যেই স্রোতের টানে ফেরিগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। মাত্র ৬টি ফেরি দিয়ে কোনো মতে সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে।

বুধবার রাতে মাত্র একটি ফেরি চলাচল করেছে। তাছাড়া বিকল্প চ্যানেলে ফেরিগুলোকে চলতে হওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে আরো বেশি। ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে এখন পদ্মা পাড়ি দিতে। ফলে ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। তাই ঘাটে প্রতিনিয়তই দীর্ঘায়িত হচ্ছে যানজটের সারি। প্রায় ৮শ’র মতো বিভিন্ন প্রকার যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

ঘাটে যেখানে দীর্ঘ যানজট লেগে আছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে গাড়ি, সেখানে ফেরি ভাড়া দিলেন কি করে?- এমন প্রশ্নের জবাবে এজিএম বলেন, জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রী। তিনি অসুস্থ থাকায় সেটি বিবেচনা করা হয়েছে। আর তিনি সব সময় ফেরি ভাড়া করেই নদী পার হন। গাড়িতেও তিনি বিশেষ চেয়ারে বসে যান। অসুস্থতার কারণেই তাকে ফেরি ভাড়া দেয়া হয়েছে।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন জানান, পদ্মার তীব্র স্রোতে ফেরিগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না। গাড়ির সারি ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। গাড়ির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যাত্রীরা অস্থির হয়ে উঠেছেন। ফেরির চলাচলে সমস্যার কারণে চাপ পড়েছে লঞ্চ ও স্পিডবোটের ওপর।

এদিকে, পদ্মার মাওয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে বিপদসীমা লেভেল রয়েছে ৬.১০। বৃহস্পতিবার এখানে ১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন পানির লেভেল রয়েছে ৬.৫০।

Facebook Comments