বাঁশখালীতে লোডশেডিংয়ে জনদূর্ভোগ চরমে;- দায়সারা মনোভাব পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২১ | আপডেট: ১০:৫৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২১

আলমগীর ইসলামাবাদী”চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ- বাঁশখালীতে পবিত্র রমজান মাসেও থেমে নেই লোডশেডিং। এতে করে রমজান মাসে রোজাদার ও মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কখনো কখনো কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আকাশে মেঘ দেখলে চলে যায় বিদ্যুৎ। সামান্য বাতাস শুরু হলেই দিনের পর দিন বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় রোজাদারদের সেহেরি, ইফতার, ও তারাবির নামাজ পড়তে কষ্টের সীমা নেই।মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বাঁশখালীতে জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য সরেজমিনে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই অফিসের চেয়ার থেকে উঠে সটকে পড়ে।

বাঁশখালীর কয়েকজন গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ আসে না শুধু যায় । বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কথা একটা শিশুরও মনে থাকবে। অন্যদিকে আমাদের ফ্রিজের যে কাঁচা জিনিস পত্র রয়েছে সেগুলো অনেকবার নষ্ট হয়ে গেছে। নানা দুর্গন্ধ ছড়ায় সেখান থেকে। হচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধি। আমাদের প্রতিনিয়ত ক্ষতি ছাড়া লাভ হচ্ছে না।আধুনিক যুগেও কি আমাদেরকে প্রাচীনকালের চেরাগ আর মোমবাতিতে ফিরে যেতে হবে? সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে সারাদেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছে। তাহলে আমরা কি বাংলাদেশের বাহিরে? এত লোডশেডিং হওয়ার কারণ কি?

গ্রাহকরা বলেন, বর্তমানে পল্লীবিদ্যুৎ তালত ভাইয়ের মতো হয়ে গেছে। যেমন- তালতো ভাই বোন মিলে যে মশকারি ও ঠাট্টা করে, ঠিক একইভাবে বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ আমাদের সাথে এই অবস্থা করতেছে। দেশে একদিকে চলছে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ অন্যদিকে লকডাউন। সেইসাথে পল্লি বিদ্যুৎও যদি এই হয়রানি শুরু করে, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? আমরা এটার সুফল চাই।

বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি জাফর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর গ্রীষ্মকাল আসলেই একটু সমস্যা হয়। গ্রীষ্মকালে পল্লী বিদ্যুতের লোড একটু বেশি থাকে। তাই এই সমস্যা হয়। আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য চট্টগ্রাম দোহাজারী,
আনোয়ারা ও পেকুয়া উপজেলা থেকে সংযোগ নিয়েছি। পেকুয়া থেকে যে পাঁচ কেবি বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি, তা সরাসরি এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টে অর্থাৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সাপ্লাই দিচ্ছে। বাকি সংযোগগুলো দিয়ে পুরো বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সামান্য হিমশিম খেতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আবার কখনো কখনো বাঁশখালী থেকে দোহাজারীর মধ্যে দুর্গম পাহাড়ে যদি বিদ্যুতের ক্যাবল নষ্ট হয় কিংবা জ্বলে যায়, তখন কোথায় নষ্ট হয়েছে এটা খুঁজে বের করতে সময় লাগে তিন ঘন্টা। তারপর লাইন মেরামতের কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে আমরা আনোয়ারা থেকে মাটির নিচ দিয়ে যে লাইনের কাজ চলতেছে এটা চালু হয়ে গেলে শতভাগ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সেই সাথে আনোয়ারা উপজেলা থেকে মাটির নিচে যে কাজ গুলো হয়েছে বিদ্যুত সংয়োগ দেয়ার জন্য এই কাজ গুলো করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার একটুও গড়িমসি করতেছে। সবমিলে আশা করতে পারি ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তবে ভিন্ন কথা বললেন বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডি.জি.এম জসীম উদ্দীন।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, বাঁশখালীতে লোডশেডিং বলতে কিছু নাই। যা সমস্যা হয় গাছের জন্য হয়ে থাকে। গাছ কাঁটার সময় লাইন বন্ধ রাখতে হয়। বড় ধরনের সমস্যা হয় না।

প্রতিদিন রাতে সেহেরীর সময়ও কি গাছ কাঁটে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমিও একজন মুসলমান। গতকাল তারাবীর নামাজ পড়ার সময় আমার পাঞ্জাবীটাও ভিজে গিয়েছে ঘামে। আমি নিজ থেকে কখনো লাইন বন্ধ করি নাই। যে চলমান সমস্যাগুলো হচ্ছে তা গাছ কাঁটতে গিয়ে হচ্ছে। তাছাড়া হঠাৎ লোড নিতে না পেরেও বিদ্যুত চলে যায়। তখন আমাদের করার কিছু থাকে না।