ভারতে বাংলাদেশী পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে বাধা

Ismail Ismail

Serazi

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

মোঃ ইসমাইল সিরাজী”স্টাফ রিপোর্টারঃ- কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আমদানি-রফতানি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে আবার চালু করা হয়।

কিন্তু ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্যসামগ্রী প্রবেশ স্বাভাবিক থাকলেও বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে দিল্লিকে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নৌ সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছি। আপাতত এতটুকু বলতে পারি যে, বাংলাদেশি পণ্য ভারতে প্রবেশের বাধা দূর করতে কূটনৈতিকভাবে প্রচেষ্টা চলছে। আশা করি খুব দীর্ঘ-ই এ সমস্যার সমাধান হবে।

মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাকে কেন্দ্র করে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বেশ কিছুদিন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই দেশ-ই অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে প্রথমে উদ্যোগ নেয় ভারত। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও উন্নয়নে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের বাণিজ্য, পররাষ্ট্র এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হয়।

তাছাড়া একাধিক ফোনকল ও ভার্চুয়াল বৈঠকে বাণিজ্য স্বাভাবিক করার জন্য জোর দেয় ভারত। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জুন থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি শুরু করে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশি পণ্য ভারতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে বাধার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয়েছে। ভারতীয় পণ্য আমদানির মতো বাংলাদেশি পণ্য রফতানিও যাতে নির্বিঘ্নে হয় সে বিষেয়ে দিল্লিকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। তথাপিও সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় নি।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা দু-পক্ষই বাণিজ্য চালু করতে একমত হয়েছি। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী সমানভাবে পণ্য আমদানি ও রফতানি চলবে। কিন্তু কেন বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে বাধা দেয়া হচ্ছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।

স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিতে জড়িত বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে যে, আমরা বাংলাদেশী পণ্য রফতানি করতে না পারলে, ভারতীয় পণ্য আমদানিও বন্ধ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিবাদ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

আওয়ার টাইমস/ইসমাইল

Facebook Comments