মসজিদে মুসল্লীদের উপস্থিতির উপর বিধিনিষেধ বাতিলকরণ ও দেশের সকল মকতব, হেফজখানাকে লকডাউনমুক্ত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী পীর সাহেব কারীমপুর।

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১ | আপডেট: ১০:৫৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

মসজিদে মুসল্লীদের উপস্থিতির উপর বিধিনিষেধ বাতিলকরণ ও দেশের সকল মকতব, হেফজখানাকে লকডাউনমুক্ত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী পীর সাহেব কারীমপুর। তিনি বলেন, গতবছর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশেও বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

 

এতে বিশ্বের বহু দেশে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ও মৃত্যুবরণ করেছে। তবে আলহামদুলিল্লাহ, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ সময়ে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হার অনেক কম ছিল। উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান দৃঢ়ভাবে একথা বিশ্বাস করেন, করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে মসজিদ-মাদরাসা উন্মুক্ত থাকায় লাখ লাখ মাদরাসা ছাত্র, উলামায়ে কেরাম ও মুসল্লীদের ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-আযকার ও দোয়ার বরকতে বাংলাদেশে করোনা মহামারির ক্ষয়ক্ষতি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম হয়েছে।

বিগত দশ মাস ধরে দেশের সকল কওমি মাদ্রাসা এবং মক্তব ও হেফজখানা চালু থাকাকালীন সময়ে কোন মাদরাসায় করোনায় মৃত্যুর খবর দেখা যায়নি।

 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জনস্বার্থেই করা হয়েছে এবং প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কর্তব্য। কিন্তু চলমান লকডাউনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে গ্রাম/শহর এলাকার প্রত্যেকটি বাজার, নিত্য পণ্যের দোকানসহ ব্যাংকসমূহে দীর্ঘ সময় মানুষের জনসমাগম ও উপচে পড়া ভিড় চলছে। গার্মেন্টস, শিল্পকলকারখানা চালু রয়েছে। অথচ আল্লাহর হুকুম ফরয নামায, জুমা, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও তারাবিহ আদায়ের অল্প সময়ের জন্য মুসল্লিদের মসজিদে উপস্থিতির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ও সংখ্যা নির্ধারণ করার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী আরো বলেন, পবিত্র মাহে রমযানুল মোবারক শুরু হয়েছে। এ মাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং বরকতময়। ও নুযুলে কুরআনের মাস ।

 

রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে রোযা, নামায, যাকাত ইত্যাদি ফরয আমলসমূহের সাওয়াব সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয়। এবং নফল আমলসমূহের সাওয়াব ফরযের সমতুল্য হয়ে যায়। রোযাদারগণকে আহার ও ইফতার করালে এক এক রোযার সাওয়াব বৃদ্ধি এবং জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি লাভ হয়।

 

এসব বিধিবিধান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)এর দেয়া সিদ্ধান্ত। যা মানা এবং অনুসরণ করা সকল মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যকীয় । আর অমান্য করা আল্লাহ তায়লা এবং তাঁর রাসূল (সা.) এর অবাধ্যতার শামিল। যা আযাব ও গজবের কারণ হয়ে দাড়াবে।

 

অতএব, সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান থাকবে মসজিদের জামাতে মুসল্লীদের উপস্থিতিসহ অন্যান্য যে সকল প্রতিবন্ধকতা জারি করা হয়েছে, তা তুলে নেওয়ার। যাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ কোনরূপ মানসিক কষ্টভোগ ও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দে ও স্বাধীনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করতে পারেন। পাশাপাশি দেশের সকল মকতব/হেফজখানা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।