সিরাজগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন

Ismail Ismail

Serazi

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

শাহাদত হোসেন সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- ১মাসের অধিক সময়ের মধ্যেই ৩য় দফায় একটানা ৪র্থ দিনে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। বন্যার পানি বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। কাজিপুর পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সাথে সাথে ভয়ঙ্কর ভাঙনে আশ্রয় ও গৃহহীন হয়ে পড়েছে যমুনাপাড়ের সাধারণ জনগণ।

এদিকে যমুনা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

জেলার বন্যা কবলিত ৬টি উপজেলা কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার বানবাসি পানিবন্দী ৩ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, শুকনো খাবার, টয়লেট পয়ঃনিস্কাশন, শিশু খাদ্য, ঔষধপাতির অভাব ও গো খাদ্যের সংকটে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডক্টর ফারুক আহম্মদ আওয়ার টাইমসকে জানান, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪০০ টন জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১৪২ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুদ আছে ২৫৮ টন চাল। শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে ৩৯৫০টি প্যাকেট।

অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ১৫০ মিটার সিমলা স্পার বাঁধ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে শতাধিক ঘরবাড়ি, বসতভিটা, গাছপালা মুহূর্তের মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙনকবলিত মানুষ বাঁধের ওপর ও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বাঁধের ওপর ঝুপড়িঘর তুলে বসবাস করছে অনেক পরিবার।

গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। স্পার বাঁধ ধসের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

২০০০-০১ অর্থবছরে ভাঙন এড়াতে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্যে সিমলা এলাকায় স্পার বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বেশ কয়েকবার স্পারটি সংস্কারও করা হয়েছে।

স্পারটি গত ১জুন প্রথম দফায় প্রায় ২৫ মিটার ধসে গিয়ে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধস ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পুরো স্পারটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

স্পার বাঁধ ধসের ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বিস্তারিত কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় লকডাউনে আছি আমরা।

আওয়ার টাইমস/ইসমাইল

Facebook Comments